২৮ আগস্ট ২০১৬ - ০০:৫৯
পরিবারের অভিশাপ তামিম: চাচাতো ভাই

জঙ্গি তামিমের মরদেহ গ্রহণ করবে না দেশে থাকা তার স্বজনরা। বরং তামিম মারা যাওয়ায় শুকরিয়া আদায় করেছেন তার স্বজন ও গ্রামের মানুষ।

আবনা ডেস্ক: জঙ্গি তামিমের মরদেহ গ্রহণ করবে না দেশে থাকা তার স্বজনরা। বরং তামিম মারা যাওয়ায় শুকরিয়া আদায় করেছেন তার স্বজন ও গ্রামের মানুষ।
গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামে তামিমের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম আহমদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের পরিবারের অভিশাপ তামিম পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত রোববার আমার বাবা মারা গেছেন। আমরা শোকাহত। এ অবস্থায় তামিমকে নিয়ে ভাববার মতো যথেষ্ট সময় আমাদের নেই। পারিবারিকভাবে তামিমের মরদেহ গ্রহণ করা হবে না।
তিন কন্যা সন্তানের জনক তামিম আহমদ চৌধুরী বিয়ে করেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। স্ত্রী সন্তান ও বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে তামিম কাডানায় বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তামিমের মরদেহ গ্রামের কোথাও দাফন করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে পুলিশের এক ঘণ্টার বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’ এ গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ জঙ্গি তামিম তিন সহযোগীসহ নিহত হন।
পুলিশের বিশেষ একটি শাখা জানায়, তামিম ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আসেন। দেশের আসার পর ‘নব্য জেএমবি’ জঙ্গি সংগঠনকে শক্তিশালী করে দেশে হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকেন। তার নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় নাশকতা হলো গুলশান হামলা।
এছাড়া শোলাকিয়া হামলার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিলো। পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি তামিম দেশে অবস্থান করছে- এটি নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা তার অবস্থান জানতে জোর চেষ্টা চালাতে থাকে।
সম্প্রতি পুলিশের হাতে আটক এক জঙ্গি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার জঙ্গি আস্তানার তথ্য দেন। সেখানে জঙ্গিদের কোন পর্যায়ের নেতা রয়েছে তা পুলিশ পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও এখানে জঙ্গি রয়েছে এটা নিশ্চিত ছিলো।
শনিবার সকালে ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে তিন নিহত জঙ্গির একজনকে তামিম হিসাবে শনাক্ত করে পুলিশ।